সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- ফতুল্লায় দুবাই ফেরত এক প্রবাসী যুবককে অপহরণ, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় ফতুল্লা মডেল থানার ওসিকে শোকজ করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ফতুল্লা আমলি আদালত) আদালতের বিচারক এম সাইফুল ইসলাম এ আদেশ প্রদান করেন।
একই সঙ্গে ওসির এমন রহস্যজনক ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলাটি সরাসরি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার চর মুক্তারপুর এলাকার সাহিদা বেগমের ছেলে বাবু (২৫) দীর্ঘদিন দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। গত ১৪ মে তিনি দুবাই থেকে দেশে ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুর ব্রিজের পাশে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে প্রবাসীর গাড়ি গতিরোধ করে। অস্ত্রের মুখে বাবুকে (২৫) অপহরণ করে গোগনগরের লালচানের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও আকরাম প্রধানসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জন তাদের আস্তানায় নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রবাসীর কাছে থাকা নগদ ৫ পাঁচ লাখ টাকা এবং ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে নেয় এবং মুক্তিপণ বাবদ পরিবারের কাছে দশ লাখ টাকা দাবি করে।
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ২৪ মে দুপুর ১২টায় ফতুল্লা মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন- ভিকটিম বাবুকে আসামিরা আদৌ অপহরণ করেছে কিনা, সেই বিষয়ে ৩ ঘণ্টার মধ্যে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার জন্য।
কিন্তু আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ফতুল্লা ওসির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি, এমনকি তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও আদালতকে কিছু জানানো হয়নি। ওসির দায়িত্ব অবহেলার কারণে আদালত ওসিকে শোকজ প্রদান করেন।
এদিকে আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ তড়িঘড়ি করে অপহৃত প্রবাসী বাবুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, ভিকটিম বাবুকে রোববার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছে।
আদালতের শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানি না। আমার কাছে কোনো আদেশ এসে পৌঁছায়নি।